জে.জাহেদ চট্টগ্রাম : মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের ভয়ঙ্কর অত্যাচারে অতিষ্ট কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানবাসী। দিন দিন সাধারণ মানুষ মাদকসেবীদের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা  তাদের স্কুল পড়ুয়া ছেলে সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। বড়উঠানের চেয়ারম্যান মাদকের বিরুদ্ধে এলাকায় যুদ্ধ ঘোষনা করলেও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃশ্যমান বড় কোন অভিযান নেই! এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা  গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার ৫নং ওর্য়াড রাজ্জাক পাড়ার হোসনে আরা (প্রকাশ মদ্দা হোসনীর) বাড়িতে বহিরাগত মাদকসেবীরা এসে প্রতিদিন ভীড় জমায়। এখানে এসে  মাদক সেবনের আড্ডায় বসে অপরাধীরা, এতে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করলেও তাদেরকে যুবতী মেয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন এলাকাবাসী জানায়, নিজ স্বামীকে হত্যাকারী তথা হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী হোসনে আরা এর নেতৃত্বে শাহমীরপুর  রাজ্জাক পাড়া ৫নং ওয়ার্ডে বসে গাঁজার আসর, ইয়াবা মাদক সেবনসহ মাদকসেবীদের রমরমা আসর নিয়মিত চলে আসছে।

আশেপাশের কিছু সংখ্যক চিহ্নিত মাদকসেবী যারা একাধিক মামলার পলাতক আসামী তাঁরা এসে এ ধরনের কর্মকান্ডে নিয়মিতই এখানে যোগ দিচ্ছে। এতে বড়উঠান,শাহমীরপুর,ফকিরন্নীরহাট সহ রাজ্জাকপাড়া গ্রামের উঠতি যুবক শ্রেণি মাদকের ছোবলে দিন দিন বখাটে হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ইভটিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

যেমনটি ঘটেছিল শাহমীরপুরে ডাকাতি ও চার তরুণী ধর্ষণের মতো  চাঞ্চন্যকর ঘটনা। যার রেশ এখনো কাটেনি। এ কারনেই জনমনে আতংক বিরাজ করছে। কেননা মাদকসেবীরা মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে যেকোন সময় ঘটাতে পারে অনাকাংখিত কিছু ঘটনা ও আইনশৃঙখলার অবনতি। প্রতিদিন ফকিরন্নীরহাট বাজারে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায় এসব মাদকাসক্ত বখাটেদের।

অন্যদিকে,স্বামী খুনের মামলায় জেল থেকে বের হওয়া ও গাজাঁ নিয়ে অতীতে গ্রেফতার হওয়া বহু বিতর্কিত মহিলা মদ্দা হোসনী এখন কর্ণফুলীর বড়উঠানসহ বহু গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। প্রাপ্ততথ্য মতে, ২বছর পুর্বে জেলে থাকা অবস্থায় হোসনীর সাথে পরিচয় হয় মাদক কারবারী একটি সিন্ডিকেটের। যার ফলশ্রুতিতে জেল থেকে বেরিয়ে গ্রামে এসে পাড়া-মহল্লায় এই মদ্দা হোসনী ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বনাশা মাদক গাজাঁ ও ইয়াবা। সাধারণ মানুষও গ্রামের বহু পরিবার এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে এই মাদক সম্রাজ্ঞীর কাছে। এ পরিবারে থাকা ২টি ছেলে ও ৩টি মেয়েও প্রতিনিয়ত নানাভাবে এলাকার নিরীহ গ্রামবাসীকে মাদক সেবনে উৎসাহী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মদ্দা হোসনীর বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় খুনের মামলাসহ নানা অভিযোগ থাকলেও পুলিশের নীরব ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে বড়উঠানের সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠেছে এসব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে।

পড়ুন : “মাদকের উৎসমুখ বন্ধ না হলে মাদককে নির্মূল করা অত্যন্ত দুরহ ব্যাপার”- সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার

মাদকের এমন ভয়াবহ প্রসারে ও অসামাজিক কর্মকান্ডে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন পরিবারে। অনেক পরিবারের সংসারও ভেঙ্গেছে এই মাদক সেবনে আসক্তির ফলে। তার এ কর্মকান্ডে ও নির্যাতনের কারণে বিয়ে করার পর সংসার টিকেনি কয়েকজনের।

সুত্র জানায়, মাদক বেচাকেনায় দুর দুরান্ত থেকে অপরিচিত মহিলারা প্রায়শ তার রাজ্জাক পাড়ার সেমি পাকা বাসায় আনাগোনা রয়েছে। গ্রামের বিলের মাঝে নির্জন বাড়িতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম। যদিও স্থানীয় সমাজের মুরুব্বীরা বাধা দিলেও কিছুতেই মাদক ব্যবসা থামাতে পারছেন না, উল্টো নানাভাবে গ্রামবাসীকে হুমকি দেয়ার  অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স ঘোষনার পরও কি করে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না, এই নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলেছেন।

এলাকার ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, আমরা এই পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করছে বলে নানা অভিযোগ পেয়ে থাকি। তবে মাদক কারবারি মহিলা সদস্য হওয়ায় বাধা বাধা দিয়েও কোন কাজ না হওয়ায় স্থানীয় পুলিশকে আমি নিজে বিষয়টা জানিয়েছি।

হাবিবুল্লাহ নামে একজন গ্রামবাসী জানান, ড্রাইভার আবু শামার মেয়ে হোসনে আরা”র কোন এক সময় বিয়ে হয়েছিলো শহরে এক লোকের সাথে। স্বামী হত্যার দায়ে গ্রেফতার হয়ে এই মহিলা জেলে যায়। পরে আদালত হতে জামিনে মুক্ত হয়ে শহর হতে গ্রামে ফিরে মাদক ব্যবসা শুরু করে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ,এই মাদকসম্রাজ্ঞী  মদ্দা হোসনী শাহমীরপুরে গড়ে তুলেছেন একটি বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটে রয়েছে একাধিক নারী সদস্য। যারা শুধু গাজাঁই নয়, এলাকায় ছড়িছে দিচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবাও। বিভিন্ন সময় এই মহিলার বাড়িতে যুবতী মেয়ে  কিংবা অপরিচিত নানা মহিলার আনাগোনা বড় রহস্যময়।

গ্রামবাসীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে তাদের বাড়িতে কথা বলতে চাইলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

মাদকসম্রাজ্ঞী মদ্দা হোসনীর কার্যকলাপ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়উঠানের চেয়ারম্যান মোঃ দিদারুল আলম জানান,মহিলাটা খুবই বিপদজনক এবং সবসময় ইয়াবা গাজাঁ ও বিভিন্ন মাদকের সাথে জড়িত। যা প্রশাসন ছাড়া কেহ দমাতে পারবেনা।

কর্ণফুলী উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে তেমন দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা হচ্ছেনা কেন? জনগণের এমন প্রশ্ন আর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, কর্ণফুলীতেও মাদকের বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত মাদক নিয়ন্ত্রণে যে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে তা সফলে পুলিশ বদ্ধ পরিকর। তথ্য প্রমান যোগাড় করে খোজ নেয়া হচ্ছে। তথ্য প্রমানে সাদৃশ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।