নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস বাংলা।টিভি : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মৃত্যুতে আমরা একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদকে হারালাম বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা পূর্ব বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা আলমগীর বলেন, প্রতিষ্ঠা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওয়াহিদুল আলম। তিনি এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। জাতীয় সংসদে তিনি হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদকে হারালাম।

নয়াপল্টনে তার জানাজায় অংশ নেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, হারুন-অর রশীদ, বেলাল আহমেদ, মুনির হোসেনসহ দলের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নামাজে জানাজার পরে মরহুমের মরদেহে দলীয় পতাকা ও ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতারা। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নয়াপল্টনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ৩ টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে  মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের লাশ চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে লাশ এম্বুল্যান্সযোগে কাতালগঞ্জে নেয়া হয়। বাদ আসর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে তৃতীয় দফা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা ওবাইদুল হক নঈমী (মা.জি.আ.)। জানাযার শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ওয়াহিদুল আলমের ছোট ভাই সৈয়দ শহীদ উদ্দিন দুলু। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান , সাবেকমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাবেক মেয়র মাহমুদুল হক চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাত হোসেন,উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গনি, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, অ্যাডভোকেট কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, প্যানেল মেয়র চৌধুরীর হাসান মাহমুদ হাসনী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন কাজী, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার বাবুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলাল, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম রাসেল, উত্তর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন সিকদার, অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সেকান্দর চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন, ইফতেখার মহসিন, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, এইচ এম রাশেদ খান,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি খুরশেদ আলম , সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মামুনুর লশিদ মামুন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আজিজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস আক্তার টিটুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

জানাযার শুরুতে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন,‘সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মৃত্যুতে বিএনপি একজন  প্রকৃত বন্ধু ও সংগঠক হারালো। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি শুরু করা ওয়াহিদুল আলম ছিলেন দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। দলমতের উর্ধ্বে উঠে তিনি চট্টগ্রাম ও হাটহাজারীর জন্য কাজ করেছেন। তাই তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য ও হুইপ হলেও ওয়াহিদুল আলম ব্যবসা বাণিজ্য করেননি। এ ধরণের রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে পাওয়া দুষ্কর। ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিজের নামে কোন বাড়ি নেই। বিএনপির প্রকৃত বন্ধু ও সফল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওয়াহিদুল আলম সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। জানাযা শেষে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের লাশ তার গ্রামের বাড়ি লালিয়ার হাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় হাটহাজারি কলেজ মাঠ ও বাদ জোহর লালিয়ার হাট মাদরাসা মাঠে দুইদফা জানাজার পর সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। উল্লেখ্য রোববার ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে হাতেখড়ি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের। পরে বিএনপি থেকে হয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। ১৯৯১ সালে প্রথম ধানের শীষে নির্বাচন করে সঙসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬, ২০০১  সালে সংসদ সদস্যসহ মোট চারবার নির্বাচিত হন। ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালনসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়কও ছিলেন তিনি। সর্বশেষ বিএনপির কাউন্সিলে তাকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের বড় মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য।