নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচাইতে বড় ইয়াবা চালান উদ্ধার করেছে সিএমপি ডিবি পুলিশ। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপি ডিবি পুলিশ কর্তৃক ৪৫ কোটি টাকা মূল্যমানের ১৩ লক্ষ পিচ ইয়াবা ও ০১টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা, ফ্লাট নং-ঋ-৪ই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৩ (তের) লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর)পুলিশ।

সিএমপি ডিবি পুলিশের সূত্রে আরও জানা যায়, গত ০৩/০৫/২০১৮ইং তারিখ সহকারী পুলিশ কমিশনার ডিবি (পশ্চিম) মোঃ মঈনুল হোসেন এর নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান, এসআই(নিঃ) আবদুর রব, এসআই(নিঃ),শিবু প্রসাদ চন্দ সঙ্গীয় এএসআই(নিঃ),বাপ্পু সেন, কং/২৭৮৯ মোঃ মনির হোসেন, কং/৩৮৮৯ রতন কুমার সেন, কং/৪৩২০ স্বরূপ বড়ুয়া, কং/৩৪৬৪ মোঃ আতিকুর রহমান, কং/২৫১২ এটিএম সাজ্জাদুল হক, কং/২৬১১ রনি বড়–য়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/ফ্লাট নং-ঋ-৪ই এ রাত ১০.৪০ ঘটিকায় হইতে রাত ০৩.০০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের হেফাজতে থাকা ০২টি বস্তায় ৩০টি বড় প্যাকেটের মধ্যে ৩০০০০০ (তিন লক্ষ) ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিচে পার্কিং এ থাকা আসামীদের প্রাইভেটকার চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৯২৪ হতে ০৫টি বস্তায় ১০০(একশত) টি বড় প্যাকেটের মধ্যে ১০০০০০০ (দশ লক্ষ) ইয়াবা ট্যাবলেট, সর্বমোট (৩০০০০০+১০০০০০০) = ১৩০০০০০ (তের লক্ষ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর ওজন অনুমান ১৩০ কেজি যাহার মূল্য অনুমান ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) কোটি টাকা।

ইয়াবা আটকের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো ১। আশরাফ আলী(৪৭), ২। মোঃ হাসান(২২), উভয় পিতা-মৃত তৈয়ব, মাতা-মৃত দিল বাহার, সাং-গিলাতলী (হাসান এর বাড়ী), থানা-নাইক্ষনছড়ি, জেলা-বান্দরবান, বর্তমানে-জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/বাসা নং-ঋ-৪ই, মসজিদের পাশে শ্যামলী আবাসিক, শান্তিবাগ, থানা-হালিশহর, জেলা-চট্টগ্রাম।

আসামী ১। আশরাফ আলী(৪৭), ২। মোঃ হাসান(২২)  উভয়ে আপন সহোদর ভাই। আশরাফ আলী ১৯৯৮ সাল হইতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে বসবাস করতো। সৌদি আরবে থাকাকালীন সময় রোহিঙ্গা আব্দুর রহিমের সাথে তার পরিচয় হয়। বার্মার নাগরিক রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম বার্মার নাগরিক লা-মিম এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। গত ০৭/১০/২০১৭ইং তারিখ আসামী আশরাফ আলী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসে। রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম এর সহিত যোগাযোগ করে বেশ কয়েকবার বার্মা হইতে ইয়াবা ট্যাবলেট সমুদ্র পথে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। গত ইং ০৭/০৪/২০১৮ তারিখ বিমান যোগে আসামী আশরাফ আলী ঢাকা হইতে রেংগুন যায়। রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম সহ রেংগুনে হোটেল এলিমিউন এ অবস্থান করে।

বার্মার নাগরিক লা-মিম এর নিকট হইতে ইয়াবা সংগ্রহ করার পর সাগর উত্তাল থাকায় রওয়ানা দিতে বিলম্ব করে। গত ইং ৩০/০৪/২০১৮ ইং তারিখ রেংগুন হইতে একটি ট্রলার ও স্পীড বোড সহ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়া রওয়ানা হয়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে ট্রলার হইতে ইয়াবা ট্যাবলেট গুলো স্পীড বোডে স্থানাস্তর করিয়া আসামী আশরাফ আলী নিজেই স্পীড বোড চালিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে কুতুবদিয়া চ্যানেল এ ঝড়ে কবলে পড়ে স্পীড বোড উল্টে গেলে স্থানীয় মাছ ধরা ট্রলারদের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেট এর বস্তাগুলো উদ্ধার করে। মাছ ধরা ট্রলার এর মাঝিকে বিভিন্ন কসমেটিক্স বার্মা হইতে আনিতেছে বলে জানায়। মাছ ধরা ট্রলারের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেট সমূহ ০২/০৫/২০১৮ইং তারিখ ভাটিয়ালী জেলে পাড়া ঘাটে নিয়ে আসে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।