বিনোদন ডেস্ক, ফোকাস বাংলা।টিভি : উদ্বোধনেই বেশ সাড়া জাগালো দৃশ্যছায়া এর সাম্প্রতিকতম চলচ্চিত্র বিষয়ক আয়োজন চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট ২০১৮। গত ১৯ এপ্রিল বন্দর নগর চট্টগ্রামের খ্যাতনামা মিলনায়তন টিআইসি এর গ্যালারি হলে ছিল দিন ব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। আরএমএস গ্রুপের স্পন্সরশীপে  চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেসট ২০১৮ এর পোশাক স্পন্সর  অনলাইন বুটিক শপ নাজনিনস।

এদিন চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত সীমান্ত রেখা প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত প্রদর্শিত হয়। বিশ্ব গণহত্যা ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ইফতেখার আহমদ সায়মন নির্মিত শর্ট ডকুমেন্টারি ফিকশন  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অনলাইনের মাধ্যমে জমা পড়া অর্ধ শতাধিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত নয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

মুলত: অনুষ্ঠানটি ছিল তরুন নির্মাতাদের ভবিষ্যত কার্যক্রম নিয়ে মুক্তালোচনা এবং উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকার বাইরে চলচ্চিত্রকে ছড়িয়ে দেয়া। সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে গোটা বাংলাদেশ কেন্দ্রিক কেন হচ্ছে না? এমন ভাবনা থেকেই এই আয়োজন- বললেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান দৃশ্যছায়া।

আয়োজকদের মতে, সামান্য কিছু সহযোগিতা পেলেই কিন্তু অসামান্য কিছু করার মত তরুণ নির্মাতা কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় আছে দেশের আনাচে কানাচে। কিন্তু অনুদান হোক, পুরস্কার হোক কিংবা ভালো প্রিভিউ/রিভিউ সব কেন ঢাকা মুখী হবে? এভাবে চলচ্চিত্র এর বিকাশ সম্ভব হবে না। যতই সেমিনার-সভা হোক না কেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশন এর উদ্যোগে সিনে কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যায় কিনা – এজন্য আলোচনা হয়। সিদ্বান্ত হয় চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে বিশেষ করে চট্টগ্রামে আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশে সিটি মেয়র বরাবর স্মারক লিপি দেওয়ার প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে গৃতিহ হয়। কারণ চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে কিন্তু প্রদর্শন এবং বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই প্রয়োজন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে মত দেন।

আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সরকারী অনুদান ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলোর সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন উপস্থিত সকলেই। জমজমাট এই আলোচনায় আগামীতে চাটগাঁ ডিক্লেয়ার দেওয়ার প্রাক ঘোষণা দেওয়া হয়। সবশেষে হওয়া জমজমাট অ্যাওয়ার্ড নাইটে সেরা অভিনেতা মনোনীত হন দুলাল দাশগুপ্ত (এডভেঞ্চারার), সেরা অভিনেত্রী নায়মা নাজনিন (আংটি), সেরা পরিচালক শেখ মোঃ আরাফাতুর রহমান। (আই এম হাংগরি), সেরা সঙ্গীত ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন আংটি টিম, সেরা চিত্র গ্রহন ও সেরা সম্পাদনায় গরল অমৃত টিম, বিবর্তন টিমের ঝুলিতে গেছে সেরা চিত্রনাট্য, সেরা শিল্প নির্দেশনা ও সেরা ছবির পুরষ্কার। সেরা গল্প পুরষ্কার পেয়েছেন রবি চক্রবর্তী নির্দেশিত আ পেরট এজ। দৃশ্যছায়া এর সেরা অভিনয় শিল্পী হিসেবে বিশিষ্ট অভিনেতা শাহিনুর সরওয়ারকে এবং দৃশ্য ছায়া এর সেরা কর্মী হিসেবে ফরহাদকে আয়োজক দৃশ্যছায়া এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

মেজবাহ আহমেদের সঞ্চালনায় অ্যাওয়ার্ড নাইটে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাইম পরিবেশন করেন রোকন জাবেদ ও নাইম। নৃত্য পরিবেশন করেন আঁখি। স্ট্যান্ডআপ কমেডি পরিবেশন করেন মাসুদ  আহমেদ।

আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল মারভেল ট্রি কমুউনিকেশন, বিশেষ সহযোগিতায় চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সিটিউট।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে আয়োজক দৃশ্যছায়া এর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এই উৎসবটিকে নিয়মিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।