মো: হামিদুর রহমান : অহংকারী পরিচয় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চান এম এ খালেক। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সিসিউতে মত্যুর প্রহর গুণছেন নোয়াখালী জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা, সুধারাম থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ খালেক। জীবদ্দশায় তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখলেও জীবন সায়াহ্নে পরিবার ছাড়া আর কেউ তার পাশে নেই। জটিল হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত এম এ খালেকের দুটি কিডনীই ক্ষতিগ্রস্থ। এম এ খালেক মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পর ধরা পড়েন এবং রাজাকাররা তাঁকে বেগমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত হানাদারদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে তিনি নোয়াখালীর বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এর অধীনে সি জোনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ স্বাধীনের পর তিনি নিজেকে সমবায় আন্দোলনের সাথে যুক্ত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুধারাম থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অসহায় মুক্তিযোদ্ধােেদর কল্যাণে ‘মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখি পূর্নবাসন সমবায় সমিতি’ গঠনের মাধ্যমে ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেন, এবং নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন তিনি নিজ হাতে মুক্তিযুদ্ধের সনদ লেখার দায়িত্ব পালন করলেও নিজের নামে একটি সনদ লিখে রাখেন নি।

পরবর্তিতে নোয়াখালী জেলা ইউনিট কমান্ড এলাকার অনেক রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট পাইয়ে দিলেও নেতৃত্বের লড়াইয়ে কোনঠাসা করে রাখার জন্যে এম এ খালেকের মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে নাম না উঠানোর বিষয়ে সক্রিয় ছিলো। বর্তমান সরকারের আমলে সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা জরীপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও ঘুষ না দেওয়ায় তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তিতে তিনি আপিল করেন, অদ্যাবধি সে আপিলের শুনানী হয়নি। তাঁর আপিল নাম্বার ১৯৭৪৬।

পড়ুন:  মুক্তিযোদ্বার স্বীকৃতি না মেলা যুদ্বাহত মুক্তিযোদ্বা তরুন লেখকদের নানাভাই নুর মোহাম্মদ রফিক আর নেই!

আজ  যদি তাঁর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি থাকতো নিশ্চয়ই তিনি রাষ্ট্রীয় আনুকুল্যে উন্নত চিকিৎসা পেতেন। বাক শক্তি হারানোর আগ পর্যন্ত তাঁর একটাই চাওয়া ছিলো তাঁর শেষকৃত্যটা অন্ততঃ যেন হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। রাষ্ট্র কি পূরণ করবে তাঁর এই অন্তিম চাওয়া?